ইগনোর আমিও করতে পারি !” মেসেজটা লিখেই অফলাইন হয়ে গিয়েছিলাম কালকে । কিন্তু, এখন আত্মা খচখচ করছে ওর সাথে কথা বলার জন্য । সকালে মেসেঞ্জারে ঢুকতেই টুংটাং শব্দে ঘর ভরে যায় কিন্তু আজকে কোন মেসেজ না দেখে প্রথম ধাক্কা খেয়েছিলাম । ফলাফল, সকালটা আধমরা ভাবে কেটে গেল ‌। • প্রেমিকার সাথে খুব ছোট একটা বিষয় নিয়ে অনেক বড় ঝগড়া হয়েছিল গতকাল রাতে । সে বললো, আমাকে নাকি Magenta কালারের শার্ট পরলে বেশি সুন্দর লাগবে !

ওর ওই কথা শুনেই আমি নাক মুখ কুঁচকে বলেছিলাম, “ইয়াক !! অন্য কোন রং খুঁজে পেলে না দুনিয়াতে ?” তার পছন্দের বিরুদ্ধে কথা বলায় সে-ও রাগান্বিত হয়ে বলেছিল, “তোমার কালার চয়েজ যে কতো ভালো তা আমারো জানা আছে ! সাদা, কালো আর ছাই রং বাদে অন্য কোন রঙের কাপড় পরছো জীবনে কখনো ?” • – আর যাই হোক তোমার মতো Magenta কালার তো পছন্দ করি নাই ! আর শার্ট পরবো কোন দুঃখে ? তুমি জানো না যে, আমি টি-শার্ট ছাড়া আর কিছু পড়ি না ? – এজন্যই তো তুমি এতো ক্ষ্যাত টাইপ ! তোমাকে যে আমি কিভাবে সহ্য করি, তা আমি নিজেও জানি না ! – তোমার মতো বাজে চয়েজ মার্কা মেয়েও আমি আর জীবনে দুইটা দেখি নাই ।

এই কথাটা বলার সাথে সাথেই কুত্তা, হারামি, বানর, বিলাই, হাইড্রা, কৃমি, ব্যাকটেরিয়া সহ আরো যত প্রজাতির প্রাণী, অণুজীব, কীট পতঙ্গ আছে সব আমার নামের সাথে যুক্ত করে দিলো । আমিও রেগে গিয়ে ওকে চুন্নি বললাম আর তখনই ঝগড়ার রফা দফা হলো আর সাথে কথা বলারও । • রাতে ওর ওপর রাগ থাকায় একাকীত্বটা একেবারেই অনুভূত হয়নি । কিন্তু এখন সময়টা কাটতেই চাইছে না । এমন না যে, আমরা কথা না বলে থাকিনা । অনেক সময় তো এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ কেটে যায় তবু কথা হয় না । কিন্তু, আজকে রাগ নেমে যাওয়া পরবর্তী সময়টাতে অনেক বেশিই খারাপ লাগছে ! কোন রকমে দুপুর বারোটা পর্যন্ত কাটিয়ে দিয়ে গোসল করতে গেলাম ‌।

আবার কি মনে করে, তোয়ালে পরেই বের হয়ে প্রেমিকাকে মেসেজ দিয়ে দিলাম । গোসল করে হয়তো এসে দেখবো অনেকগুলো মেসেজ দিয়ে রাখছে । আর তখন আমি ইগনোর করবো ! ভাবতেই আনন্দ হচ্ছিলো । • বাকিদের মতো শীতকালে ওয়াটার ফোবিয়া হয় না আমার । ট্যাঙ্কের পানি দিয়েই দিব্যি গোসল করতে পারি । গোসল শেষে ফোন নিয়ে ছাদে চলে গেলাম রোদ পোহানোর জন্য । লক খুলে দেখি এখনো রিপ্লাই আসেনি । আমিও ফোন রেখে দিয়ে বসে রইলাম । কিন্তু পাঁচ মিনিট পরেই আবারো চেক করলাম মেসেজ এসেছে কিনা, তারপর আবারো । সতের মিনিট ছাদে বসেই ৮/৯ বার চেক করলাম । তবুও রিপ্লাই আসছে না দেখে ধৈর্য্য হারিয়ে আবার মেসেজ দিলাম ! এইবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম রিপ্লাই দিয়ে ভরে ফেলুক, হাজারবার ফোন দিক আমি কখনোই রিপ্লাই করবো না । •

প্রতিজ্ঞা ধরে না রাখতে পেরে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত আরো ১২ টা মেসেজ দিলাম সব উস্কিয়ে দেওয়া কথাবার্তা মিশ্রিত করে । প্রেমিকা যখন মেসেজ সিন করেও রিপ্লাই দিলো না তখন আমার মেজাজ সপ্তমে । রাগের চোটে সিদ্ধান্ত নিলাম ও যদি আমার পায়ে ধরে কান্না করে পুকুরও বানিয়ে ফেলে তবুও আগামী একমাস ওর সাথে কথা বলবো না । প্রতিজ্ঞা করেই বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম । • রাত বারোটা পর্যন্ত এপাশ ওপাশ করার পরেও যখন ঘুম আসলো না তখন মনে মনে বললাম, “এই বারই শেষ ! এরপর আর না মানে না !” শেষবারের মতো প্রেমিকাকে মেসেজ দিলাম । যথারীতি মেসেজ সিন হলো কিন্তু রিপ্লাই আসলো না । আধা ঘন্টার মাঝে ১৫ থেকে ১৮ বার চেক করলাম রিপ্লাই এসেছে কিনা ! রিপ্লাই না আসায় পুরো শরীর রাগে কটমট করতে লাগলো, কান গরম হয়ে গেলো !! কান গরম হওয়াকেই হয়তো কান দিয়ে ধোঁয়া বের হওয়া বলে আখ্যায়িত করা হয় !

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here