বাসর ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। বুকটা ধুকপুক ধুকপুক করছে। কারণ বাসর ঘরে বউ সেজে যে বসে আছে। আজ থেকে দুই দিন আগেও সে ছিলো আমার ভাবি। আর এখন আমার ই বউ….. তারপর আমি আস্তেধীরে দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকলাম সাথে সাথে বউ এসে পা চুয়ে সালাম করে। আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। খুব নারবাস লাগছে। তখন সে নিজের জায়গায় চলে যায়। আর আমিও গিয়ে খাটে বসলাম। তখন সে নিজেই নিজের ঘুমটা খুলে।

আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখি বউ সাজে তাকে খুবই কিউট লাগছে। কিন্তু একি তার চোখে জল। কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফোলে গেছে। আমি কিছু বলতে যাবো। তখন তার আগেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো। –নীল আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমাকে কোনোদিনও স্বামী হিসেনে মেনে নিতে পারব না। কারণ আমি যে এখনোও রাফিকেই ভালবাসি। তাকে ছারা আমি আর কাউকে নিয়ে কিছু ভাবতে পারবো না। (আচ্ছা এখন পরিচয় পর্বটা দেওয়া যাক, আমি কাব্য আহম্মেদ (নীলয়) আর রাফি হলো আমার বড় ভাই।

যে কিনা প্রায় দুই মাস আগে কার এক্সিডেন্টে মারা গেছে আর মিরা হচ্ছে আগে ভাবী ছিলো এখন বউ।) মিরার কথাটা শুনে হঠাৎ বুকটা চিন চিন করে উঠলো। তারপরেও নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম। –তাহলে বিয়েটা করার মানে কি..? আমার জীবনটা কেন এইভাবে নষ্ট করলে। —I’m So Sorry নীলয়। আসলে মা-বাবা এমনভাবে জোর করছিলো যে আমি কিছু বলতেও পারি নি। আর তোমার সাথেও বিয়ের আগে আমার দেখা হয়নি,, যে তোমাকে সব খুলে বলবো। –হুম.. বুঝলাম।

এখন আমি ই বা কি বলতে পারি। সব রাস্তা তো তুমি বন্ধ করে দিলে)–মনে মনে —আচ্ছা তুমি এক কাজ করো। তুমি বিছানায় সুয়ে পরো আমি সোফায় গিয়ে ঘুমিয়ে পরি। –আরে তা কি করে হয়। তুমি মেয়ে মানুষ হয়ে সোফায় শুতে যাবে কেন? তুমি বরং বিছানায় সুয়ে পরো। আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি। —আচ্ছা ঠিক আাছে। এই বলে সে শুয়ে পরে বিছানায়। আর আমি বাতিটা নিভিয়ে বেলকানিতে চলে আাসলাম। একটা সিগারেট ধরিয়ে -মনে মনে বলতে লাগলাম ”কোনোদিন ভাবিনি তোমাকে এইভাবে কাছে পাবো মিরা। অথচ আমার কি কপাল দেখো। আজ তোমাকে কাছে পেয়েও পাইনি। তুমি যে আমার কথাটা শোনার প্রয়োজনও মনে করলে না। নিজেই শুধু বলে গেলে। অথচ একবারও জিজ্ঞেস করলে না। আমি তোমাকে কেন বিয়ে করলাম। বুঝতেও চইলে না আমার এই হৃদয়ের কথা। যে হৃদয় চিৎকার করে বলতে চাইছে। মিরা আমি তোমাকে খুব ভালবাসি। নিজের থেকেও অনেক বেশি “ভালোবাসি”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here