দশ হাজার এক টাকা দেনমোহর। নয় হাজার এক টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করেছি। পকেটে আছে পাঁচশত। এখন সেই বাকি এক হাজারও দাবি করে বসে আছে। এত টাকা দিয়ে কী করবে সে? মনটাই খারাপ হয়ে গেল। সাড়ে বারোটা বাজতে চলল। শামীম আবার দুপুরের খাবার নিয়ে হাজির হবে। শামীমের বাবা মা জমি সংক্রান্ত ঝামেলার জন্য তার নানীর বাড়ি গেছে দুইদিন আগে।

হয়তো আরো দুয়েকদিন থাকতে পারে। বাড়িটা ফাঁকা বলেই এই বাসরদিনের আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। তার মধ্যে চারু দেরি করা শুরু করেছে। কাজি সাহেবের সামনে তখন নয় হাজার এক টাকাই দেনমোহরের কথা বলার দরকার ছিল। কিন্তু দশ হাজারের নিচে কাবিন করাটা নিজের কাছেই কেমন যেন লাগে। তার উপর মাস খানেক আগেই চারু বলেছিল, পালিয়ে যে বিয়ে করবা, “কাবিনের টাকা রেডি রেখো।

নিজের বিয়ের টাকাটা অন্তত জোগাড় করে রাখো।” -হইছে আর মুখ গোমড়া করে থাকতে হবে না আমার স্বামীটার। এক হাজার টাকা লাগবে না। যদিও দিতে হয় পরে দিও, আমি তোমাকে ধার দিলাম। চারুর মুখে কথাটা শুনে আমার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। প্রেম করার সময় পার্কে বসে কত করে বলতাম, ‘চারু দেখো ওরা দু’জন কিভাবে জড়িয়ে ধরে আছে। চারু দেখো।

ঐ যে দূরের গাছটার নিচে ছেলেটা মেয়েটাকে চুমু খেল। আমার চুমু খাওয়াতে চুয়াল্লিশ ধারা কেন?’ জবাবে বলত, বিয়ের পর কিছুতেই বাঁধা দেব না। কিন্তু বিয়ের আগে প্লিজ আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করো না। আমি চারুর কথা শুনে চুপসে যেতাম। অপেক্ষা করতাম কবে বিয়ে করব। আজ যখন পালিয়ে বিয়ে করলাম, বিয়ে শেষে চারুকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে পারতাম। যেহেতু গোপনে বিয়ে করেছি আর বিয়েটা আপাতত গোপনই থাকবে।

তাই বাসর করাটা তত জরুরী ছিল না। কিন্তু আমি যে দিনের পর দিন চুয়াল্লিশ ধারা ভঙ্গ করিনি তাই চারু আমার কথা ফেলতে পারেনি। শুধু বলেছে বান্ধবীর সাথে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছে সকাল বেলা। দুপুরে বান্ধবীর বাড়িতে খাবে। বিকালে বাড়ি ফিরবে। তাই চারুকে বিকাল পাঁচটার আগেই ছেড়ে দিতে হবে। আমি চারুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, সে আবার বাঁধা দিল। এই এক মিনিট, ফার্মেসীতে গিয়েছিলে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here