চুয়াল্লিশ ধারা ভাঙ্গার আগেই মনে হচ্ছে, শামীম দরজা ভেঙ্গে ফেলবে। জোরে জোরে ধাক্কা দিয়ে বলছে, “শ্রাবণ দরজা খোল তাড়াতাড়ি। বাবা মা আসছে। জমির ঝামেলা মনে হয় শেষ। পাকা রাস্তা থেকে বাড়ির দিকে আসছে। ধরা পড়লে সর্বনাশ হয়ে যাবে।” আমি দরজা খুলতেই শামীম ঘরে ঢুকে বলছে, “সরি দোস্ত সরি। আমাকে ক্ষমা কর। আর আগে বের হ, পুকুর পাড় দিয়ে রাস্তায় উঠ এদিকে কেউ দেখবে না। আমি ফুল, বিছানা গুছিয়ে দুই মিনিটের ভিতর চলে আসব।” চারুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

দুনিয়ায় কাউকে বাসর করতে গিয়ে দৌড়ানি খেতে হয় কি না আমার জানা নেই। আমার আর বাসরদিন করা হলো না। বিয়ে করলাম আজ অথচ বাসর না জানি কবে হয়। চারু মুচকি মুচকি হেসে বলল, ভালো হইছে। উচিত কাজ হইছে। আমি রাগে চোখ বড় করে তাকাই, চারু আরো হাসে। পুকুর পাড় ধরে মাটির রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি। বাসর যেহেতু হলো না, তাহলে আর এখানে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই। কোনো একটা হোটেলে গিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নেই। বিকালের মধ্যে আবার চারুকে তার বাড়ি যেতে হবে।

তার বাবা ভয়ংকর রাগী মানু্ষ। একই এলাকায় থাকি বলে তার বাবাকে ভালো করেই জানা আছে আমার। শামীমের বাড়িটা শহর থেকে অনেকটা দূরে। তাই এখানে চলে আসা, যেন এলাকার কেউ টের না পায়। আমি আর চারু হাঁটা ধরলাম। পাকা রাস্তা অবধি হেঁটে গেলে রিক্সা পেয়ে যাব। পেছন থেকে শামীম ডাকছে। তার হাঁটার গতি দেখে মনে হচ্ছে অলিম্পিকে হাঁটার প্রতিযোগীতা শুরু করেছে। কাছাকাছি এসে শামীম বলল, “এত সাহস দেখাবি না একদম। এটা তোদের শহর না। এখানে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে একসাথে হেঁটে গেলেই সন্দেহ করে। আর তোরা অপরিচিত এই গ্রামের জন্য। আমি সাথে থাকলে ভয় নেই, সব সামলে নেব।” – হইছে, এবার হোটেলে চল।

প্রচন্ড ক্ষিধে পেয়েছে। -এখানে সাদামাটা ভাতের হোটেল আছে, কোনো রেস্টুরেন্ট পাবি না। তাছাড়া ভাবীকে সাথে নিয়ে হোটেলে খাবি, মানুষজন তাকিয়ে থাকবে। তার চেয়ে ভালো সিএনজিতে উঠে পড়, আধা ঘন্টায় নরসিংদী যেতে পারবি। রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার নিয়ে একটি পার্কে বসে যা। গল্প করতে করতে খেয়ে নিবি। -কথাটা মন্দ বলিসনি, তুইও চল আমাদের সাথে। -না, বাবা মা আসছে তো বললামই। তাদের সাথে দেখা করাটা জরুরী। তাছাড়া ফুলসহ চাদর খাটের নিচে রেখে এসেছি। ধরা পড়ার আগে সবকিছু সামলাতে হবে। তোরা যা, আর রাতে ফোন দিস। আমি কাল কলেজে নাও আসতে পারি। আসলে তোকে ফোন দেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here