আকাশ কোন মোমবাতি খুঁজে পেল না। আবার ঘরে ফিরে এলো। – এই যে আপনি বারবার এ ঘর ও ঘর করছেন কেন? চমকে উঠল আকাশ। এই মেয়েটার গলা সেই মেয়েটার গলার মধ্যে ও মিল আছে। আচ্ছা এই মেয়েটা ই সেই মেয়েটা নয়ত? কিন্তু তা তো সম্ভব নয় ওই মেয়েকে তো নিজের হাতে মেরেছে আকাশ। – আপনি কি কথা বলতে পারেন না? বলেন। – না মানে ঘর ভীষণ অন্ধকার একটা মোমবাতি খুঁজে পাচ্ছি না। – আর কোথায় অন্ধকার আমি তো সব কিছুই দেখতে পারছি।

এই মেয়ে বলে কি ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে বলে ও নাকি সব দেখতে পাচ্ছে। -আচ্ছা আমি আপনার জন্য মোমবাতি নিয়ে আসতেছি। আপনাদের এখানে মোমবাতি কোথায় থাকে। – আমার টেবিলের ড্রয়ারে থাকে। সাদিয়া আকাশের টেবিলের ড্রয়ারে হাত দিয়েই মোমবাতি পেয়ে গেল। আকাশ কিছুক্ষণ আগেই ড্রয়ার ভালো করে চেক করেছে সেখানে কোনো মোমবাতি ছিল না। – আচ্ছা ম্যাচ কোথায় আছে এটা ত জ্বালাতে হবে। আকাশ পকেট থেকে তার সিগারেট খাওয়া বের করে দিল। সাদিয়া মোম জ্বালিয়ে নিল।

মোমের আলোয় আকাশ সাদিয়াকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। – আচ্ছা আপনি এতক্ষণ কোথায় ছিলেন আমার যে খুব ঘুম পাচ্ছে আপনার বুঝেন না কিছু? আমার কত ইচ্ছা ছিল আমি আমার বরের সাথে অনেক গল্প করব কিন্তু আপনি তো কথাই বলেন না। – আচ্ছা তোমার ঘুম পেয়ে থাকলে ঘুমাও। সাদিয়া একটা চেয়ারে বসে ছিল। আকাশের কথায় তার মন খারাপ হয়ে গেলো। সে চেয়ার থেকে উঠে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পপড়তে ধরল। মোমের আলোয় আকাশ সাদিয়ার বিপরীত দিকের দেয়াল টায় তাকিয়ে দেখল সেখানে সাদিয়ার কোন ছায়া পড়েনি।

চমকে উঠল আকাশ এটা তো সম্ভব নয়। ওর হঠাৎই ভীষণ ভয় করতে লাগলো। – এই যে কি হলো আপনি ঘুমাবেন না। – আমার একটু কাজ আছে আমি বাইরে যাচ্ছি। এই কথা বললে আকাশ বাইরে চলে গেল সারা রাত ফিরল না। রাত তিনটে আকাশ তার ফ্রেন্ড বরাতের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশের ফোন সুইচ অফ হয়ে আছে বরাতকে কেমনে ডাকবে তা সে বুঝতে পারছে না। বাসার দিকে যেতে যেতে আকাশ দেখল বরাতের দারোয়ান ঝিমোচ্ছে। জাগিয়ে বলল গেট খুলতে সে বাসায় যাবে। দাঁড়ান প্রথমে রাজি হলো না কিন্তু সেই ডিউটি সময় বসে ঝিমাচ্ছে বরারকে বলে দেওয়ার ব্ল্যাকমেইল করল আকাশ। তারপর দারোয়ান রাজি হল এবং ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে দিল। আকাশ ভিতরে ঢুকে সোজা বরারের রুমে ঢুকে গেলাম বরাতের দরজা খোলাই ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here